ফেনীর জয়নাল হাজারী কলেজে বুধবার ফেনী ইউনিভার্সিটি এবং হাজারী কলেজের সহায়তায় উচ্চশিক্ষায় ফেনী ইউনিভার্সিটির অবদানের আঞ্চলিক প্রেক্ষিত শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে উক্ত কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন। জয়নাল হাজারী কলেজের অধ্যক্ষ মো: আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: সাইফুদ্দিন শাহ প্রধান অতিথি ও মুখ্য আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন ফেনী ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার প্রফেসর তায়েবুল হক।
এতদাঞ্চলে ফেনী ইউনিভার্সিটির উচ্চ শিক্ষার অবদানের প্রেক্ষিত আলোচনায় প্রফেসর শাহ উল্লেখ করেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতীর সাথে আমাদের সমাজেও দ্রুত বিবর্তন সাধিত হয়ে চলেছে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থাকে একটি জাতির উন্নয়নের সোপান হিসাবে বিবেচনা করা হয়। অর্জিত জ্ঞান ও শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আজকের দিনে আমাদেরকে অনেক বাস্তব সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। জ্ঞানের অত্যাধিক দ্রুত বিস্তার, বানিজ্য ও সংস্কৃতির বিশ্বায়নের বর্তমান এ যুগে গবেষণাগারে অপেক্ষাকৃত দ্রুত সময়ের ব্যবধানে লাগসই প্রযুক্তির উদ্ভাবন যেমন প্রয়োজন তেমনি সেসব প্রযুক্তি যথাসম্ভব দেশের সর্বত্র নির্বিঘেœ এবং সরল-সোজাভাবে পৌঁছানো প্রয়োজন কিন্তু বাস্তবে তা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয়ে উঠছে না; বিশেষকরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নের ধারা বজায় রাখা কষ্টকর হয়ে উঠছে ফলে সে রকম এলাকা আবশ্যিকভাবে উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে আর এরকমই একটি প্রেক্ষাপটে শিক্ষা ও উন্নয়নের কেন্দ্র হিসাবে ফেনীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা যুক্তিগ্রাহ্য হয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে নতুন জ্ঞানের উৎপত্তি ও চর্চার জায়গা, সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিস্তারের প্রাণকেন্দ্র। তাই ফেনীতে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যেসব মহৎপ্রাণ ব্যক্তি এগিয়ে এসেছেন তিনি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। প্রতিষ্ঠার বিগত পাঁচ বছরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তার বর্ণনায় তিনি উল্লেখ করেন যে সার্বিকভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার মান, শিক্ষার পরিবেশ, শ্রেণীকক্ষ, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরী, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক ইত্যাদির নিরিখে বাংলাদেশের গুটিকয়েক সুনাম অর্জনকারী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম করা হলে সেখানে ফেনী ইউনিভার্সিটির নাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে একথাও উল্লেখ করেন যে ফেনী ইউনিভার্সিটিতে যে সেমিস্টার ফি গ্রহন করা হয় তা হাতে গোনা ক‘টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি ছাড়া বাংলাদেশের অন্য যে কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গৃহীত ফি-এর চেয়ে কম। পড়ালেখার তুলনামূলক খরচ এবং বিশ^বিদ্যালয়ের মানের কথা বিবেচনায় রেখে উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি এতদাঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ফেনী ইউনিভার্সিটিকে তাদের পছন্দের তালিকায় রাখার আহব্বান জানান।
ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার প্রফেসর তায়বুল হক ফেনী ইউনিভার্সিটির সূচনা, শিক্ষাদান কার্যক্রম, সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে বলেন, উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলের উপর নির্ভর করে আমাদের সেমিস্টার ফি তে বিভিন্ন অনুপাতে ছাড় দেয়া ছাড়াও নি¤œবিত্ত পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের কথা চিন্তা করে আমরা টিউশন ফি কম রাখার চেষ্টা করি এবং সুবিধাবঞ্চিত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য টিউশন ফি’র উপর বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও আমাদের রয়েছে। পরিশেষে তিনি ইউনিভার্সিটির সার্বিক উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম তার কলেজের সার্বিক অবস্থা বর্ণনা করেন এবং ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়কে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।